যান্ত্রিক কবিতা মোটরসাইকেল
একটি অভিনব যান্ত্রিক কাব্য: "মোটরসাইকেল"
কবিতা মানেই যে কেবল প্রেম, প্রকৃতি, বিরহ বা আবেগের বন্দনা নয়, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত কবি মোঃ সুমন হোসেন রচিত "মোটরসাইকেল" কবিতাটি। এটি মূলত মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা যন্ত্রকৌশলের উপর ভিত্তি করে লেখা একটি অসাধারণ এবং ব্যতিক্রমী "যান্ত্রিক কবিতা"।
এই কবিতায় কবি অত্যন্ত নিপুণভাবে একটি মোটরসাইকেলের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো ছন্দের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। ইঞ্জিন, ক্লাচ, গিয়ারবক্স থেকে শুরু করে কার্বুরেটর, সাসপেনশন, স্পার্ক প্লাগ এবং পিস্টনের কার্যপ্রণালী—সবকিছুই খুব সহজ ও সাবলীল ভাষায় কাব্যের রূপ পেয়েছে। সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো, কবি এখানে একটি জড় যন্ত্রকে জীবন্ত প্রাণীর সাথে তুলনা করেছেন। এয়ার ফিল্টারকে প্রাণীর শ্বাসযন্ত্র বা ফুসফুসের সাথে এবং ইঞ্জিনকে মানবদেহের পাকস্থলীর সাথে তুলনা করে এর জ্বালানি দহন ও শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়াটি অসাধারণভাবে বুঝিয়েছেন।
তবে কবিতাটি কেবল যন্ত্রের স্তুতিবাক্য বা বর্ণনায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। এটি অত্যন্ত সুচারুভাবে কিছু সামাজিক বার্তাও দিয়েছে। পরিবেশ দূষণ রোধে এগজস্টের ক্যাটালাইটিক কনভার্টারের ভূমিকা এবং বেপরোয়া গতির কারণে আধুনিক এই যানটি যে অনেক সময় "মরণযন্ত্রে" পরিণত হয়, সেই রূঢ় বাস্তবতার কথাও মনে করিয়ে দেয়। চালকদের ট্রাফিক নিয়ম ভাঙার প্রবণতা এবং নিরাপত্তার জন্য ব্রেকের উপর নির্ভরতার বিষয়টিও খুব বাস্তবসম্মতভাবে উঠে এসেছে।
আধুনিক যুগের এই বিশেষ যানটিকে নিয়ে বাংলায় এমন একটি প্রকৌশল-নির্ভর কবিতা সত্যিই বিরল। যান্ত্রিক জ্ঞান আর কাব্যিক ছন্দের এই অপূর্ব মিলন পাঠককে সম্পূর্ণ নতুন এক স্বাদ দেয়। কবি তাঁর এই রচনার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যে ব্যতিক্রমী ছাপ রাখার আশা ব্যক্ত করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
Contacter le commerçant pour commander :